• মঙ্গলবার ( ভোর ৫:১৬ )
  • ৪ঠা আগস্ট ২০২০ ইং

» কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল (অনার্স -মাস্টার্স ) মাদ্রাসা উৎপত্তির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

প্রকাশিত: ২২. অক্টোবর. ২০১৯ | মঙ্গলবার

১৭৯৯ খৃষ্টব্দে বৃটিশ ব্যাপ্টেন হিরাম কক্স যখন কক্সবাজার শহরের গোড়াপত্তন করেন তখন এ অঞ্চলে হিন্দু ও মগরা ছিল সংখ্যগিরিষ্ট। ১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে অনেক মগ পার্শ্ববর্তী বার্মা (মিয়ানমার) চলে গেলে অনেক বর্মী মুসলমান এখানে চলে আসে। অন্য দিকে পাক-ভারতের স্বাধীনতার পর এখানে খুব দ্রুত মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম সন্তান-সন্তানাদিদের ধর্মীয় শিক্ষাদানের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়েজনীয়তা অনুভূত হলে টেকপাড়ার বিশিষ্ট দানবীর আলহাজ্ব কলিম উল্লাহ কন্ট্রাক্টর তার পিতা আবুল হাশেমের নামানুসারে কক্সবাজার হাশেমিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা কল্পে ১৯৫১ সালে প্রায় ২ একর জমি ওয়াকফ করত: একটি দালান তৈরী করে দেন। এবং স্থানীয় গণ্য-মান্য ও সমাজ হিতৈষী লোকদের সহায়তায় সুপার মাওলানা মুজাহের আহমদের পরিচালনায় ১৯৫২ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে দাখিল, আলিম ও ফাযিল স্তরে ১০টি ক্লাসে একই সাথে শিক্ষা কার্যক্রম আরম্ভ হয়। জেলায় হাদীসের উচ্চতর গবেষণা ও অধ্যয়নের জন্য অন্য কোন প্রতিষ্ঠান না থাকায় এখানকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের হাদীসের উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের সুবিধার্থে স্থানীয় জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৯ সালে এখানে কামিল স্তর চালু করা হয়। এবং ১৯৮০ সালেই তা বোর্ডের স্বীকৃতি লাভ করে। ২০০৪ সাল পর্যন্ত ২৫ টি ব্যাচে এখান থেকে প্রায় ৩৫০০ জন শিক্ষার্থী কামিল পাশ করে দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী-বেসরকারী পদে কর্মরত আছেন। বিশেষ করে এলাকার বিভিন্ন ইবতিদায়ী, দাখিল, আলিম ও ফাযিল মাদ্রাসা গুলোর জন্য আদর্শ শিক্ষক তৈরী করা এ মাদ্রাসার অন্যতম প্রধান কাজ। শিক্ষা-দীক্ষায় অনুন্নত এ অঞ্চলে বিভিন্ন কু-সংস্কার ও বেদাত-শিরকের মূলোৎপাটনে এ মাদ্রাসা আদর্শ নকীবের ভুমিকা পালন করে আসছে। তাছাড়া ১৯৯০ সালে দাখিল স্তরে এবং ২০০৩ সালে আলিম স্তরে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করা হয়। ১৯৫৬ ইং থেকে অত্র মাদ্রাসা পাবলিক পরীক্ষা সমূহের কেন্দ্র হিসেবে মাদ্রাসা বোর্ডের বেশ সুনাম অর্জন করেছে।

ফেসবুক থেকে কমেন্ট করুন।
Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৯৭ বার

Share Button