• মঙ্গলবার ( সকাল ৬:১১ )
  • ৪ঠা আগস্ট ২০২০ ইং

» পরীক্ষায় সফলতার জন্য শিক্ষার্থীর করণীয়…..

প্রকাশিত: ০১. নভেম্বর. ২০১৯ | শুক্রবার

সুপ্রিয় পরীক্ষার্থী বন্ধুরা! শুভেচ্ছা নিও। আশা করি তোমরা সবাই কাক্সিক্ষত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছো। পরীক্ষা নামক শব্দটি তোমাদের মাঝে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে নিশ্চয়ই। উদ্বেগের কোন কারণ নেই, এ প্রতিধ্বনির প্রকৃত সাফল্যের ভাগ্য নির্মাতা তোমরাই।

সামনে তোমাদের জেডিসি/জেএসসি, ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী/পিএসসি, দাখিল/এসএসসি পরীক্ষা। এ সময়টা তোমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তোমাদের স্ব স্ব পরীক্ষার জন্য চলছে দীর্ঘদিনের শ্রমলব্দ মেধা ও মননের চূড়ান্ত মহড়া। প্রতিটি বিষয়ে নিবিড় অনুশীলনে এখন তোমরা গভীরভাবে মগ্ন।

পরীক্ষায় সফলতার জন্য শিক্ষার্থীর করণীয় সম্পর্কে তোমাদের কিছু পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করছি। আশা করি পরামর্শগুলো তোমাদের ভালো ফলাফল অর্জনে কাজে লাগবে। তোমাদের সবার পরীক্ষা ভালো হোক, তোমরা কাক্সিক্ষত ফল অর্জন করো, মহান মহিয়ানের দরবারে এ প্রার্থনাই করছি।

মানুষের জীবনটা বৃক্ষতুল্য। একে সাজাতে হয় নানাভাবে। সুশোভিত করতে হয় ফুলে-ফলে। জীবনকে ফুলে-ফলে সুশোভিত করতে চাই ঐকান্তিক সাধনা ও প্রাণান্তকর চেষ্টা। শিক্ষাজীবনে পরীক্ষা হলো এমনই এক চেষ্টা ও সাধনার সিঁড়ি। শিক্ষাজীবনের সফলতা-ব্যর্থতা বহুলাংশে নির্ণয় করা হয় পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই স্বাভাবিক নিয়মে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। সকল শিক্ষার্থীই চায় ভালো বা কাক্সিক্ষত ফল অর্জন করতে। পরীক্ষার খাতায় লেখার ওপর নির্ভর করেই মান যাচাই বা মূল্যায়ন করা হয়।

সকল শিক্ষার্থীর মেধা সমান নয়। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষার খাতায় সঠিকভাবে উপস্থাপনের অভাবে কাক্সিক্ষত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়। মেধাবী হলেই ভালো বা কাক্সিক্ষত ফল করা যাবে এ ধারণা মোটেই সঠিক নয়। কিছু কৌশল আয়ত্ত করতে পারলে মেধার ঘাটতি অনেকটা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব।

পরীক্ষা কী: “পরীক্ষা” শব্দটির সাথে আমরা সকলেই অতি পরিচিত। পরীক্ষা হচ্ছে মেধা যাচাই ও পড়ালেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের মাধ্যম। পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীর অগ্রগতি ও উন্নতি মূল্যায়িত হয়ে থাকে। কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে উত্তীর্ণ হতে পারে না। এ কারণে পরীক্ষাকে কেউ কেউ এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: “The way people connected with schools or other aspects of yours life evaluate your performance. Exams are also a way of informing you of your current progress and ability.”
যে প্রশ্নসেট ব্যবহার করে মূল্যায়ন করা হয় তার নাম অভীক্ষা। অভীক্ষা নিম্নরূপ হতে পারে:
১) সৃজনশীল প্রশ্ন বা Creative Question (CQ), ২) নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্ন বা Objective/Short Question, ৩) রচনামূলক, বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন বা Subjective/ Broad Question
আমাদের দেশের পরীক্ষা পদ্ধতিতে এক সময় রচনামূলক বা বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার বহুল প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমানে সৃজনশীল ও নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নের প্রচলন অনেক বেশী ও কার্যকর।

পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কতিপয় পরামর্শ:
১. প্রশ্নপত্রের নম্বরের আলোকে উত্তর লেখার জন্য সময় বন্টন করা: শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হওয়ার অনেক আগেই প্রশ্নপত্রের নম্বরের আলোকে উত্তর লেখার জন্য সময় বন্টন করে নিতে হবে।
২. বণ্টনকৃত সময়ের আলোকে উত্তর লেখার প্র্যাক্টিস/ অভ্যাস করা: পরীক্ষার্থীকে বণ্টনকৃত সময়ের মধ্যে উত্তর লেখার প্র্যাক্টিস বা অভ্যাস করতে হবে, যাতে সে আলোকে পরীক্ষার হলে সকল প্রশ্নের উত্তর লেখতে সক্ষম হয় এবং সময়ের অভাবে কোন উত্তর লেখা বাদ পড়ে না যায়।
৩. পরীক্ষার স্থান (কেন্দ্র), সময় ও রুটিন জানা: পরীক্ষার স্থান/কেন্দ্র, পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়ার সময় এবং রুটিন/সময়সূচি অর্থাৎ কোন বিষয়ের পরীক্ষা কোন দিন হবে তা পরীক্ষার্থীর জানা থাকা অত্যাবশ্যক। পরীক্ষা শুরুর আগের দিন পরীক্ষার সময়সূচি ভালোভাবে দেখে নেয়া প্রয়োজন।
৪. পরীক্ষার রাতে অধিক না জাগা: পরীক্ষার রাতে বেশি সময় জাগ্রত থাকার চেয়ে পরিমিত ঘুমানো উচিত, যাতে করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঘুমের ভাব না থাকে এবং মস্তিস্ক শান্ত থাকে। পরীক্ষার আগের রাতে অধিক পরিমাণে জাগ্রত থাকার কারণে অনেকের জন্য ভালোভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয় না।
৫. উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও টেনশনমুক্ত ফাইনাল বা চূড়ান্ত রিভিশন : শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা উদ্বেগ ও টেনশনের কারণ। পরীক্ষার আগের রাতেই সকল পরীক্ষার্থী চূড়ান্ত বা ফাইনাল রিভিশন দিয়ে থাকে। চূড়ান্ত রিভিশন কালে কোন কিছু মনে না এলে, মুখস্থ করতে কোন বিষয় বাদ পড়ে গেলে, জানা বিষয় ভুলে গেলে উদ্বেগ বা টেনশন নেয়া উচিত নয়। এতে সময় অপচয়, মানসিক অশান্তি বৃদ্ধি হওয়া ব্যতিত কোন উপকার হতে পারে না। উদ্বিগ্ন হলে কোন অজানা বিষয় জানা হয় না, বরং জানা বিষয় ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য পরীক্ষার আগের রাতে টেনশন, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠামুক্ত ফাইনাল রিভিশন দেয়া উচিত।
৬. পরিমিত ঘুম ও বিশ্রাম নেয়া : পরীক্ষার আগের রাতে শরীর ও মনকে পরিমিত বিশ্রাম দেয়া দরকার। পড়তে পড়তে মাথা জ্যাম করে পরীক্ষার হলে যাওয়ার চেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পরীক্ষার হলে যাওয়া উত্তম।

√পরীক্ষার দিন করণীয়:
১. প্রয়োজনীয় উপকরণ সাথে রাখা: পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে বাসা থেকে বের হওয়ার পূর্বেই প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপকরণ সাথে নেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। কোন কোন পরীক্ষার্থী একেবারে নতুন কলম নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে, প্রবেশপত্র বা পরীক্ষাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ বাসায় ফেলে রেখে হলে ঢুকেই মানসিক বিড়ম্বনার শিকার হয়। এতে মন-মানসিকতা খারাপ হয়ে পড়ে। তাই পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে ব্যবহার উপযোগী কলম, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জ্যামিতিবক্স, পেন্সিল, রাবার, ক্যালকুলেটরসহ পরীক্ষা সম্পৃক্ত উপকরণাদি সাথে রাখা দরকার।
২. রুচি ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ : পরীক্ষার সময় বা পরীক্ষা শুরুর আগের দিনগুলোতে সাধারণত স্বাস্থ্য ও রুচিসম্মত খাবারগ্রহণ করা উচিত। কেউ কেউ স্বাস্থ্যসম্মত খাবারগ্রহণ না করে অস্বাস্থ্যকর খাবারগ্রহণ করে থাকে, ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবারকে অগ্রঅধিকার দিয়েছে।

ফেসবুক থেকে কমেন্ট করুন।
Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭৮ বার

Share Button