• মঙ্গলবার ( ভোর ৫:২৮ )
  • ৪ঠা আগস্ট ২০২০ ইং

» ঢাকা মদিনাতুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা সফর ব্যক্তিগত অনুভূতি…

প্রকাশিত: ১৩. ডিসেম্বর. ২০১৯ | শুক্রবার

যে অনুভূতি ভাষায় সহজে প্রকাশ করা যায়না,যা মনেও করতে পারিনি সত্যি এভাবে দু’টো দিন আনন্দে কেটে যাবে।

ঢাকা ২১নং জুরিয়াটুলী লেন, নবাবপুর রোড,
ওয়ারীর অধিনস্থ মদিনাতুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ২ থেকে ৫ মার্চ ২০১৯ ইং সময়টি অন্য রকম আনন্দের দিন ছিল। কেননা চার দেয়ালে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে সবাই প্রকৃতির কাছে এ কয়েকটা দিন একেবারেই মিশে গিয়েছিলেন। কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ২রা মার্চ রাত ১০ টায় তাঁরা যাত্রা শুরু করেন। পরদিন খুব ভোরে বাস যখন কক্সবাজারে গিয়ে পৌঁছায়, তখন দূর থেকে সমুদ্রের গর্জন তাদের যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছিল। তারা হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করার পর সমুদ্র দেখতে বেরিয়েছিলেন, সে এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা। কীভাবে দূর থেকে ঢেউগুলো এসে তীরে অাছড়ে পড়ছে, এ দৃশ্য চোখের সামনে না দেখলে কখনোই পুরোপুরিভাবে উপলব্ধি করা যাবে না। সমুদ্রের বিশালতা দেখে মুহূর্তেই যেন শিক্ষার্থীদের মনটা ভালো হয়ে যায়। বাসে করে দীর্ঘ রাস্তা ভ্রমণের ক্লান্তি ভাবটা তখন আনমনে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল।
হোটেলে ফিরে ঘুমিয়ে পরের দিন সকালে তারা নাস্তা সেরে চলে গিয়েছিলেন সুগন্ধা সি বিচে। সেখানে গিয়ে তারা সমুদ্রে দাপাদাপি করে গোসলসহ ব্যাপক আনন্দ করেছেন। সেইসঙ্গে স্থানীয় বিক্রিতার মন ভরে কলা খেয়ে তারা কিছু সময়ের জন্য হলেও শহরের কেমিক্যাল মেশানো কলার কথা ভুলে থাকতে সক্ষম হন। সমুদ্র থেকে হোটেলে ফিরে শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার খেয়ে রেস্ট নেয়। সন্ধায় শেষ বারের মত সি বিচের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে গিয়ে সূর্যাস্ত দেখে সবাই বিমোহিত হয়ে পড়েন, সমুদ্র এত সুন্দর হয়? কী চমৎকার নান্দনিকতায় ঢেউগুলো আছড়ে পড়ছে তীঁরে এসে, এর কোনো বিরাম নেই। শুভ্র স্বপ্নিল সাদা রঙের ঢেউগুলো যেন অনন্তকাল ধরেই এভাবে রুটিনমাফিক আছড়ে পড়ছে তীরে এসে, আর সুবিশাল আকাশের সঙ্গে মিতালী ও বন্ধুত্বের মিশেলে প্রকৃতির এক অপরূপ অতুলনীয় সৌন্দর্যকে তুলে ধরছে। তার মাঝে কিছু শিক্ষার্থী হিমছিড় গিয়ে পাহাড়ি উঁচু রাস্তায় ব্যাপক আনন্দের সঙ্গেই ভ্রমণটি উপভোগ করেন। হিমছড়ি ঝর্ণায় গিয়ে মেঘেদের মাঝে পাহাড়ের সৌন্দর্য এবং ঝর্ণা থেকে পানি প্রবাহিত দেখে শিখার্থীরা অভিভূত হয়ে পড়েন। শহরে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের কাছে পাহাড়ি উঁচু রাস্তা বেয়ে উপরে ওঠার রোমাঞ্চটাই অন্যরকম ছিল।

৫রা মার্চ সকাল ৮ টায় নাস্তা সেরে শিক্ষার্থীরা বাসে করে টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নবপ্রতিষ্ঠিত মদিনাতুম উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার শাখাটি দেখতে যান। দুপুর ২ টার দিকে কক্সবাজার পিরে ইমাম মুসলিম ইসলামিক সেন্টার পরিদর্শনে যান শিক্ষার্থীরা। অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মেহমানদারীতে মুগ্ধ তারা। স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাদের স্মৃতিপটে।
এটিই ছিল শিক্ষার্থীদের শেষ গন্তব্যস্থল, তারপর আবার সারা রাত বাস জার্নি করে তারা ৬রা মার্চ সকালে ঢাকায় ফিরে আসেন।

অত্র মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওঃ মুফতি হোসাইন মাহমুদ আল কারিমী সাহেব বলেন,
এভাবেই প্রকৃতির কাছে স্মৃতির পাতায় সারা জীবন মনে রাখার মতো সময় শিক্ষার্থীরা কাটিয়ে এলেন, যা আসলে কখনোই ভুলার নয়।

শিক্ষা সফরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি কামাল পাশা সহ শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাও আশরাফ আলী, হাফেজ আমান উল্লাহ, মাও ইমরান, মাও মাহবুব।

শুভাখাঙ্খীদের মধ্যে ছিলেন, ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল আলী, মোহাম্মদ নোমান ফয়েজী,মোহাম্মদ সাঈদ প্রমুখ।

প্রথমবারের মতো এ স্পটগুলো দেখার অভিজ্ঞতা কখনোই ভুলতে পারবেন না বলে জানান শিক্ষার্থী রফিক, নাঈম, সাঈদ, রাহাত প্রমুখ।

লেখকঃ
মোহাম্মদ নোমান ফয়েজী
শিক্ষকঃ মোহাম্মদীয়া আদর্শ মাদ্রাসা চট্টগ্রাম।

ফেসবুক থেকে কমেন্ট করুন।
Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭৪ বার

Share Button