• শুক্রবার ( দুপুর ১২:৪০ )
  • ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং

» বিএনপির_নির্বাচনও_একটি_পোস্টমোর্টেম!

প্রকাশিত: ০৫. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

জি_এম_কামরুল_হাসানঃ
“যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন কেস্টা বেটাই চোর”
রবি ঠাকুর বোধকরি সেই বহু আগেই বাঙ্গালীর চরিত্র বুঝেই এমন দু’চরণ লিখে গেছেন!

আমি এবারের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বেশ মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করেছি। অনেক দিন পর প্রচার প্রচারনায় নির্বাচনী পরিবেশ বেশ মুখোরিতো হয়ে উঠেছিলো। বিরোধী দল নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্বাচনে লড়েছেন এটাও যেমন সঠিক তেমনি সরকারী দল ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনে চুল পরিমানে ছাড় দেবে সেটা ভাবাও বোকামী।
পুরো নির্বাচনী ঘটনাবলী পর্যালোচনা করলে আমরা কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করবো,আসুন সেগুলো একটু দেখে আসি–

#প্রচার_প্রসারঃ এবারের সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রাচারনায় লেবেলপ্লেইং ফিল্ড মোটাদাগে বেশ ভালো ছিলো।শুধু উত্তর ও দক্ষিনের দুটি ঘটনা ছাড়া। তবে এদুটো না ঘটলে আরও ভালো হতো।
ঢাকা সিটির আকাশ ছেয়ে গিয়েছিলো পোস্টার আর পোস্টারে। যদি রঙিন পোস্টারের বিধান থাকতো তবে রাজধানী নিশ্চিত বাহারী রং এ সাজতো এতে কোন সন্দেহ নেই। তবু সাদা কালো বাংলা সিনেমার মতো তো সেজেছিলো,তাতেই বা কম কি!

এই প্রচারে আওয়ামী লীগ কোন ধরনের কমতি রাখেছে বলে মনে হয়না। সেখানে খোলা ট্রাকে গান,ব্যানার ফেইস্টুন, প্লে কার্ড সিনিয়র নেতাদের অংশগ্রহন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা ভলেন্টিয়ারদের সহযোগিতা, নেতাদের গোছানো একটা পরিকল্পনার ছাপ সেখানে বিদ্যমান।

অন্যদিকে বিএনপির মাত্র কয়েকজন সিনিয়র নেতা ছাড়া প্রার্থীদের পাশে থেকে আওয়ামী লীগের মতো তেমন শো ডাউন পরিকল্পনার ছাপ কি লক্ষ্য করা গেছে? মির্জ আব্বাস, ডঃ মোশররফ, হাবিনূনবী ছাড়া তেমন কাউকে কি চোখে পড়ার মতো আমরা দেখেছি? এমপি নির্বাচনে বিএনপির কয়েকহাজার প্রার্থী যদি মনোনয়ন নিতে যুদ্ধে নামতে পারে তবে সেই নেতারা যদি ঢাকায় থেকে প্রচারে অংশ নিতো তবে চিত্রটা কেমন হতো একবার ভাবুনতো!

কথায় কথায় সরকারের বিরুদ্ধে ভোটে নানা অভিযোগ দেন ভালো কথা, তাই বলে নিজেদের একটা সঠিক পরিকল্পনা কি থাকবে না? এই যে বিএনপির ৭ জন এমপি সংসদে আছেন তাদের কি আমরা মাঠে দেখেছি? যুবদলের এতো নেতা কোথায় ছিলো তারা? ছাত্রদল কমিটি নিয়ে এতো হানা হানী করে তাদের উপস্থিতি কোথায় ছিলো? অন্যদিকে তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমু এই বয়সেও তা্দের উপর অর্পিত দায়িত্ব কিভাবে পালন করেছে তা সবাই দেখেছেন। বিএনপির দুজন প্রার্থী ইশরাক ও তাবিথ প্রানান্ত চেস্টা চালিয়েছে তা ছিলো চোখে পড়ার মতো। নিঃস্বন্দেহে তাদের প্রচার প্রসার সাধারণ মানুষের দৃস্টি কেড়েছে। তাদেরকে যদি ভালোমতো গাইড এবং সহযোগিতা করা হতো তাহলে এই নির্বাচন আরও অন্যরকম হতে পারতো।
#নির্বাচনের_দিনঃ

নির্বাচনের দিন কয়েকটি বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে চোখে পড়েছে, সেখানে কেউ বলছে জোর করে প্রেস করেছে, হাতে কালী লাগিয়ে দিয়েছে বাট বুথে ভোটটা দিয়েছে অন্য কেউ, বিএনপির এজেন্টদের বের করেদিয়েছে, কোথাও ঢুকতে দেয়নি, মোড়ে মোড়ে ৪০/৫০ জন করে আওয়ামীলীগের লোকজন দাড়িয়ে থেকে বিএনপির লোকদের আসতে দেয়নি, ইভিএম এ ভোটের ফল পালটানো যায়। সাথে সাথে ফল ঘোষণা নাকরে দীর্ঘ সময় নিয়ে মেন্যুপ্লেট,কেন্দ্র দখল, ভয় ভীতি দেখানো,প্রশাসনের পক্ষ পাতিত্ব সহ নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে। পুরান ঢাকার এক কমিশনার প্রার্থীর মাথা কেটে দেয়ায় রক্তাক্ত দেখা গেছে পুলিশও দাঁড়িয়ে দেখেছে এটাও চোখে পড়েছে। এখন প্রশ্ন হলো এই বিষয় গুলো অভিযোগ তোলা পর্যন্তই শেষ? নাকি এসব বিষয় জানা সত্তেও বিএনপির কিছু করনীয় ছিলো ?
নির্বাচনে ইশরাক সাহেব বয়সে নবীন হলেও মার্জিত বক্তব্য ও আচরনে সবার দৃষ্টি কাড়তে স্বক্ষম হয়েছেন বলা যায়। তার ভোট কেন্দ্র কেন্দ্রে ছুটে গিয়ে এজেন্টদের কে সটিক ভাবে কাজ দেখিয়ে দেওয়ায় কোন কমতি ছিলো না, কিন্তুু তার সাথে কোন সিনিয়র নেতাদেরকে কেউ কি আপনারা দেখেছেন? এটাও কি আওয়ামী লীগের দোষ? ওদিকে তাবিথ আওয়াল সেও দৌঁড়েছে এক জায়গা হতে অন্য,তার ক্ষেত্রও চিত্র একই, নির্বাচন কমিশনে তার আবেদন যখন শোনার সময় নেই বলে তখনও বিএনপির সিনিয়ররা কোথায়? এমন কি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা নাসিম সাহেব ও বিএমপির দু প্রার্থীর প্রতি মায়ার সুরে বলতে দেখেছি কোথায় তাদের সিনিয়র নেতারা?
আচ্ছা বিএনপির যত নেতা ঢাকা শহরের ভোটার তারা সবাইকি ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিলো ভোট দিতে? এখানেও কিন্তুু প্রশ্ন আছে!

#ভোটের_ফলাফলঃ
ভোটের ফলাফল যা তা ইতোমধ্যেই সবারই জানা তবে আশংকাজনক বিষয় হলো ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের হার।এই চিত্র নিশ্চয়ই একটা সংকেত দিয়ে যায়। তাহলে কি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে? আগ্রহ কমে যাচ্ছে? রাজনীতিবিদ রা কি আগের সেই ক্যারিশমা হারিয়ে ফেলছে? এবিষয়ে পরে কথা হবে তবে আজ বিএনপির বিষয়েই থাকি।

#বিএনপি_যা_করতে_পারতঃ
৩০০ আসনের সব এমপি প্রার্থীদের কে সাথে নিয়ে এলাকা এবং ভোট কেন্দ্রভিত্তিক প্রচার ও প্রসারে অংশ নিতে পারতো। প্রতিটি এরিয়াতে যদি এসব নেতারা যেতো তবে ভোটারদের আগ্রহ যেমন বাড়তো তেমন পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের একটা অভিজ্ঞতাও হতো বটে।
সেলিব্রিটি নেতাদের নিয়ে আলাদা প্রচারটীম করে এলাকা ভাগ করে সেই মতো প্রচারে অংশ নিলে নিশ্চয়ই ভালো ফল আসতে পারতো।
যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, তাঁতী দল, মহিলা দল, টকশো দল সবাইকে ওর্য়াড টু ওর্য়াড কমিটি করে প্রচার কাজে করে ভালো ফল বয়ে আনতে পারতো না কি?বিএনপির যত শিল্পী সাহিত্যিক আছে তারা কি কোন ভুমিকা রেখেছে? উত্তর সবারই জানা।

প্রচারে নতুনত্ব থাকতে পারতো, ক্রিয়েটিভ কিছুকি আমারা তাদের কাছে দেখেছি।ধরুণ বিএনপি চেয়ারপারসন এখন জেলে আছেন যদি বিএনপির মহিলা দলের শত শত নেত্রী বেগম জিয়ার স্টাইলে সেজে মিছিল করে এক একদিন এক এক এরিয়াতে শোডাউন করতো একবার ভাবুনতো বিষয়টি কোন পর্যায়ে পৌছাতো?? এখানে কি সরকার বাঁধা দিতো?
রাস্তায় বড় বড় মিছিল তারা করেছে মিডিয়াতে দেখেছি,কিন্তুু মহিলা দল সহ সবাইকে সাথে নিয়ে এলাকা ভিত্তিক একজন করে ডেমো খালেদা জিয়া সেজে ভোটার সিলিপ বাড়ী বাড়ী তারা দিতে পারতো।এতে ভোটার উপস্থিতি বেশি হতো নিশ্চত।

বলা হচ্ছে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।এখানে আপনারা জানতেন তাদের বের করে দেওয়া হবে, তো বের করে।

ফেসবুক থেকে কমেন্ট করুন।
Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৯ বার

Share Button