• মঙ্গলবার ( ভোর ৫:২৩ )
  • ৪ঠা আগস্ট ২০২০ ইং

» করোনা পরিস্থিতি ও আমাদের করনীয়!

প্রকাশিত: ০৯. এপ্রিল. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

◑জি এম কামরুল হাসানঃ
চলমান বিশ্ব করোনা পরিস্থিতি এক কথায় অনিয়ন্ত্রিত এক পাগলা ঘোড়ার উভ্রান্ত দৌড়ের মতোই! উন্নত দেশ সমূহ এখন এই করোনার কাছে নাস্তানাবুদ অবস্থা। কি করা উচিৎ আর কি করা হচ্ছে তার কোন হিসেব কেউই করতে পারছেনা। বাংলাদেশ ও এই পরিস্থিতির বাইরে নয়।আজ পর্যন্ত ২০৯ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারী করোনা। এর মধ্যেও অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা, করনীয় নির্ধারনের সময় ক্ষেপন, তার উপর ত্রাণ সামগ্রী আত্নীকরনও চলছে। বৈশ্বিক এই ভাইরাস যখন মৃত্যুর দামামা বাজিয়ে চলেছ তখন আমাদের দেশে অনেক গুলো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। তদুপরি আরও কি ভাবে এই পরিস্থিতি থেকে আমরা অল্প সময়ে আরও অধিক সুফল পেতে পারি তার একটা বিশ্লেষণ নিন্মে তুলে ধরার চেস্টা করছি।

ডাক্তারদের জাতীয় বীর ঘোষণাঃ
দিন শেষে আমরা সেই চিকিৎসকদের কাছেই আমাদের আস্থা রাখি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়তো চিকিৎসকদের নিয়ে নানা ট্রল করা যাবে তারপরও তাদের কাছেই আমাদের যেতে হয়। একারনেই এখনি বাংলাদেশে যত ডাক্তার আছেন তাদের মধ্য থেকে কারা স্বেচ্ছায় জাতীয় বীর হিসেবে করোনা ফাইটার হিসেবে কাজ করতে চাই, তাদের নিয়ে একটা টীম গঠন করে দ্রুত প্রশিক্ষণ প্রদান করা। প্রয়োজনে চীন থেকে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তারদের নিয়ে এসে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা যেতে পারে। এই ডাক্তারদের পাশ্ববর্তী ভারতের মতো উন্নত হোটেলে থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা করা, তাদের বহনের জন্য বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করা, তাদের এই আপদকালীন সময়ের জন্য বিশেষ প্যাকেজের আওতায় আনা, এবং তাদের এই মহৎ কাজকে তুলে ধরে তাদের ছবিসহ জাতীয় প্রচার ও গন মাধ্যমে তুলে ধরা যেন এটা দেখে অন্য চিকিৎসকরা আগ্রহী হয়ে উঠে এবং সাধারণ মানুষ আস্থা পায় যেন তাদের করোনা হলে ও চিকিৎসার সুব্যাবস্থা এদেশে হয়।

নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদেরও মূল্যায়ণ করাঃ
চিকিৎসক দের মতো নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদেরও একই ভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে একই রকম পদক্ষেপ গ্রহন করা।

বিশেষায়িত করোনা হাসপাতাল ঘোষনাঃ
দেশের প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে একটি বড় হাসপাতাল কে করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে অন্য সব ধরনের চিকিৎসা বন্ধ রাখা। এই হাসপাতাল গুলোতেই উপরুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়োগ করা। এই হাসপাতাল গুলোতে পর্যাপ্ত এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুুত রাখা যাতে করে যেখানেই করোনা সন্দেহ রোগী পাওয়া যাবে তাকে দ্রুত নিয়ে এসে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। একই সাথে বিশেষায়িত এসব হাসপাতালের নাম ও ফোন নম্বর জাতীয় সব গনমাধ্যমে একযোগে প্রচার করতে হবে। এসব হাসপাতালের অধিনে সব সরকারী হাসপাতালে করোনা পরীক্ষাগার প্রস্তুুত করা, টেস্ট পজেটিভ হলেই বিশেষায়িত হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স কল করে তাকে প্রেরণ করা।

সাধারণ রোগীদের ভয় দূরীভূত করাঃ
উপরুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহন করা গেলে চলমান সারাদেশে সব হাসপাতালে বর্তমানে সাদারণ যে স্বাস্থ্য সেবা স্থবির হয়ে পড়েছে সেখানে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী ও রোগীদের মধ্যে যে করোনা আতঙ্ক কাজ করছে তার দ্রুত অবসান হবে।বর্তমানে রোগীরা মনে করে যে হাসপাতালে গেলেই মনে হয় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে। তাই স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা নেওয়া তেকে বিরত রয়েছে। আবার একথাও সত্য যে পিপিই এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নাথাকার কারনে স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্টরাও নিরাপত্তার কথা ভেবে দূরত্ব বজায় রাখার কারনে বর্তমান চিকিৎসা সেবা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বেসরকারী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোর সমন্বয় করাঃ
আমার জানা মতে সারা দেশে যে সব বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক গুলো এখনো পর্যন্ত করোনা চিকিৎসায় কোন প্রকার এ্যাড্রেস করতে পারেনি বা চাইনি। আবার সরকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে এসব বেসরকারী হাসপাতাল গুলোর জন্য কোন কমিটি গঠন করে করোনা মোকাবিলায় কোন ধরনের মনিটরিং সেল গঠিত হয়েছে কিনা। অথচ এসব প্রতিষ্টান নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ একেক ধরনের মন্তব্য প্রদান করছেন। যা স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সাধারন মানুষের মধ্যে ভিন্ন বার্তা পৌচ্ছাছে।
চলমান সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের এখনি উচিৎ হবে এসব বেসরকারী হাসপাতাল মালিকদের নিয়ে দ্রুত সভার ব্যাবস্থা করা। এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে প্রতিটি হাসেলপাতালে একটি করোনা ইউনিট চালু করা এবং এসব করোনা ইউনিটে প্রশিক্ষিত সরকারী চিকিৎসক ও সেবা কর্মীদের নেতৃত্বে পরিচালনার ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে সরকারী সাবসিটি বরাদ্দের ব্যাবস্থা রাখতে হবে। একই সাথে কঠিন মনিটরিং এর আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অযথা বেসরকারী হাসপাতাল , ক্লিনিক বন্ধ করা হবে এমন মুখো রচক কথা বলার কোন অর্থ হয়না। যারা সমন্বয় করবেন তারা তা নাকরে এমন মন্তব্য করে নিজেদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে এখনি এবিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

করোনা সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষ সুবিধা প্রদানঃ
চলমান করোনা মোকাবিলায় যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী, সেনা, নৌ, বিমান,রেব,পুলিশ, বিজেবি, আনসার সদস্য সহ যারা এ কাজের সাথে জড়িত তাদের সবাইকে বিশেষ নিরাপত্ত প্রদান করতে হবে। একই সাথে বিশেষ আর্থিক ও বিশেষ সুবিধ প্রদান করতে হবে।
যাতে তারা নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে পারে।

মসজিদ ভিত্তিক প্রচারঃ
আমরা লক্ষ্য করতে পারি দেশের সব মানুষ টিভি খবর শোনে না, বা গুরুত্ব দেয় না, এমতাবস্থায় যদি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে এর বিস্তার ও করোনীয় নিয়ে দেশের সব মসজিদ থেকে পা্চওয়াক্ত আযানের আগে বা পরে করোনা সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নির্দেশিত নিয়মাবলি মাইকে নিয়োমিত প্রচার করা যায় তবে দেশের আপামর সব মানুষ আরও বেশি সচেতন হবে। দেখা যায় গ্রাম এলাকার মানুষ করোনা স্বাস্থ্য বিধি মনছে না, কিন্তুু তারা মসজিদের ঘোষনা ফলো করে। তাই এ বিষয় টি করা গেলে আশাকরা যায় দ্রুত ফল লাভ করা যাবে।

ত্রাণ বিতরণ ব্যাবস্থাপনাঃ
সরকারী যে ত্রাণ বিতরনের ঘোষণা এবং বরাদ্দা দিয়েছে তার সঠিক বিতরণ ব্যাবস্থাপনা করা গেলে দেশের সব নাগরিক বাড়ীতে বসেই ত্রাণ পেতে পারে। কিন্তুু চলমান দৃশ্য সে কথা বলছে না। যেখানে ত্রাণ সেখানেই মানুষের ঢল।এটা করোনা বিস্তারে আরো সহায়ক হচ্ছে। কবির ভাষায় “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্ণমার চাঁদ যেনো ঝলসানো রুটি” যেখানে খাদ্য নেই সেখানে ভাইরাসের খবর কে রাখে।
এর উপরে সারাদেশে ত্রানের চাল ডাল জনপ্রতিনিধিদের আত্মসাতের খবরাখবর চাউর হচ্ছে। মানুষ একটা হাহাকারের আভাস দেখতে পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যদি সেনা ও নৌ সদস্যদের কাজে লাগানো যায় এবং তাদেরকে মনিটরিং এর দায়িত্ব দেওয়া হয় তবে মানুষের সেবা দোর গোড়ায় পৌচ্ছে যাবে।একই সাথে যেসব দূর্নীতি গ্রস্থ জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা পাওয়া যাবে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের দায়িত্ব প্রদানঃ
দেখা যাচ্ছে চলমান করোনা পরিস্থিতি গত কয়েকমাস যাবৎ ধরে চলছে বিভিন্ন দেশে। সেই মোতাবেক যদি পদক্ষেপ গ্রহন করা হতো তাহলে কেনো পিপিই সময়মতো পাওয়া যায়নি, কেনো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে আগেই প্রস্তুুত করা হয়নি, কেন হাসপাতাল প্রস্তুুত করা হয়নি, কেন বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের সঠিক ব্যাবস্থাপনা করা হয়নি। এসব না করার অর্থই হলো মুখে মুখে সব করে ফেলা কর্মকর্তারা তাদের পেশার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন। তারা সরকার ও সরকার প্রধানকে যে তথ্য প্রদান করেছেন তা সঠিক ছিলোনা। এসব ক্ষেত্রে এখনি যোগ্য দক্ষ লোকবল বা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি একাই লড়ে যাচ্ছেন, যদি আপনার মনোভাব নিয়ে সবাই চেস্টা করে তবে দৃশ্য অন্যরকম হতে বাধ্য। প্রয়োজনে আপনি স্যাম্পল বেসিস কিছু উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে টেলিকনফারেন্স করেন তবে অন্য চিত্র দেখতে পাবেন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা যদি আরও গভীরভাবে দৃষ্টি পাত করতে পারি এবং নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সবাই সচেতন হয়ে পালন করা যায় তবে সফলতা আসবে।একই সাথে সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে। যোগ্য লোকবলকে সঠিক দায়িত্ব দিতে হবে। করোনা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা।এই সমস্যার অবশান নিশ্চয়ই হবে।

লেখকঃ
-জি এম কামরুল হাসান
কলাম লেখক
gmkhasan@gmail.com

ফেসবুক থেকে কমেন্ট করুন।
Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩৩ বার

Share Button