• মঙ্গলবার ( ভোর ৫:২৫ )
  • ৪ঠা আগস্ট ২০২০ ইং

» নড়াইলের পল্লীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নাটকীয় কায়দায় নিজদলীয় লোককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ!!

প্রকাশিত: ২৬. এপ্রিল. ২০২০ | রবিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইলঃ
নড়াইলের পল্লীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ দলীয় লোককে কুপিয়ে জখম করেছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী মশিউর বাহিনীর লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলাধীন আটলিয়া গ্রামে। সোমবার (২০ এপ্রিল) আটলিয়া গ্রামের রবিউল মোল্যার বাড়িতে নাটকীয় এ ঘটনা ঘটায় মশিউর বাহিনীর সক্রিয় সদস্যরা।

জানা গেছে, কালডাঙ্গা গ্রামের চাঞ্চল্যকর আজমল হত্যাকা-ের মূল হোতা ছিল সন্ত্রাসী মশিউর। তার ভাই লুৎফর রহমান ইউপি নির্বাচনে পরাজয় বরণ করার পর সে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আজমলকে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর আজমলের বাবাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাদী বানিয়ে বনগ্রামের ২৬ জন নিরীহ লোককে আসামি করে কালিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। কিছুদিন পর মামলাটি ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)’র সদস্যরা মামলাটির তদন্তভার পায়। সুষ্ঠ তদন্ত শেষে সিআইডি’র তদন্তকারী কর্মকর্তা সাজানো এ হত্যা মামলার নিরীহ ২৬ জন আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে খুনি মশিউরসহ মোট ৭ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে।

এরপর থেকেই মশিউর এলাকায় নতুন করে খুনের পরিকল্পনা করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার আটলিয়া গ্রামের রবিউল মোল্যার বাড়িতে নিজের সন্ত্রাসী বাহিনীর সক্রিয় সদস্য মিকান, মিলন ডাকাত, রিবাদ, তরিকুল, তসিকুল, লাভলুসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে রবিউল মোল্যা তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। এ সুযোগকে পুঁজি করে সুচতুর মশিউরের নির্দেশে তার নিজ দলীয় কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনার পরে রিবাদ, তরিকুল ও তসিকুলকে প্রথমে আধুনিক সদর হাসপাতাল, নড়াইলে নিয়ে যায় মশিউর বাহিনীর সদস্যরা। পরে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসা প্রদানের কথা বলে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এলাকাবাসী ধারণা করছে, আহতদের মধ্য থেকে যে কোনো একজনকে কৌশলে হত্যা করে আবারও নিরীহ জনগণের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করবে খুনি মশিউর।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বনগ্রাম এলাকার ত্রাশ মশিউর বাহিনীর প্রধান কুখ্যাত এই সন্ত্রাসীর পুরো নাম মশিউর রহমান মোল্যা। সে কালিয়া উপজেলাধীন বনগ্রামের মৃত দলিল উদ্দিন মোল্যার ছেলে এবং ১২নং চাঁচুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের ভাই। অল্প বয়স থেকেই সে নানাবিধ অপকর্মের সাথে জড়িত।

এছাড়াও চাঞ্চল্যকর আজমল হত্যাকা-ের গোমর সিআইডি কর্তৃক ফাঁস হওয়ার পর থেকে মশিউর বাহিনী ভিকটিমের পরিবারসহ মামলার স্বাক্ষীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। মশিউর বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় শক্তির মহড়া প্রদর্শনসহ পুনরায় তার দলীয় কোনো লোককে খুন করে নিরীহ জনসাধারণের নামে মামলা দায়েরের পায়তারা করছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

বর্তমানে খুনি মশিউর একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি কুখ্যাত ডাকাত মিলনসহ আরো কয়েকজনকে সাথে নিয়ে একটি ক্যাডার বাহিনী তৈরি করে এলাকায় বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের ও প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

খুনি মশিউর ও তার বাহিনী যাতে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আর কোনো নিরীহ ব্যক্তির নামে মিথ্যা মামলা দায়ের না করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

ফেসবুক থেকে কমেন্ট করুন।
Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৫ বার

Share Button